কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি!

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর বিজ্ঞান প্রজন্ম বিভাগে ১৬ নভেম্বর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি!


অতি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কার্বন সায়েন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কার্বন ডাই-অক্সাইডকে একটি রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের তালিকায় যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী সমস্যা সৃষ্টিকারী বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি উৎপাদন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
কার্বন সায়েন্স নামের এ উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তাদের এ প্রক্রিয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। কারণ, এখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড জৈব প্রভাবকের (বায়োক্যাটালিস্ট) সহায়তায় প্রক্রিয়াজাত করে তিনটি মৌলিক হাইড্রোকার্বনে পরিণত করা হবে, যার মধ্যে আছে মিথেন, ইথেন ও প্রোপেন। পরে এ তিনটিকে আবার উচ্চ মানসম্পন্ন জ্বালানি, যেমন−গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েল তৈরির কাজে লাগবে। কার্বন সায়েন্সের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সভাপতি ডেরেক ম্যাকলেইস বলেন, ‘আমরা পরীক্ষাগারে এ গবেষণা দেখে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে আছি। এখন অপেক্ষা করছি একটি ভালো ফলের জন্য। আরেকটি বিষয় হলো, এ প্রকল্পে আমার কোনো উচ্চ তাপমাত্রা কিংবা উচ্চ চাপ−কোনোটাই ব্যবহার করছি না।’
এই কার্বন ডাই-অক্সাইড পুনঃপ্রক্রিয়াকরণটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথমে জৈব প্রভাবককে বিশুদ্ধ ও উৎপাদন করার পর তার ভেতরে কার্বন ডাই-অক্সাইড দেওয়া হবে। পরে এই বায়োক্যাটালিস্ট রিঅ্যাক্টরে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং বায়োক্যাটালিস্ট রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভেঙে তিনটি মৌলিক হাইড্রোকার্বনে পরিণত হবে এবং সবশেষে কনডেনসারের মাধ্যমে সেই হাইড্রোকার্বনগুলো উচ্চ মানসম্পন্ন জ্বালানিতে পরিণত করা হবে।
কার্বন সায়েন্স ছাড়াও বর্তমানে এ ধরনের আরও বেশ কিছু গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে কাজ করছে। সানডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা ঘনীভুত সৌরশক্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে। সানশাইন নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান একটি প্রোটোটাইপ যন্ত্র তৈরি করেছে, যার সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে প্রথমে কার্বন মনোক্সাইডে পরিণত করা হয় এবং যা পরবর্তী সময়ে তরল জ্বালানির একটি অংশে পরিণত হয়।
জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা করছেন বর্তমান সময়ের গবেষকেরা। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল নর্থ গবেষণা করেছেন কীভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যে পরিণত করা যায়। অধ্যাপক নর্থের মতে, কার্বন সায়েন্সের এই প্রকল্প যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। কিন্তু এরই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন এভাবে, ‘তারা (কার্বন সায়েন্স) এখনো জানায়নি তাদের জৈব প্রভাবকগুলো কত দিন সক্রিয় থাকবে। যদি মাত্র এক দিন সক্রিয় থাকে, তাহলে প্রতিদিনের এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রক্রিয়াকরণের জন্য টন টন পরিমাণ এই জৈব প্রভাবকের প্রয়োজন হবে। তা ছাড়া এই জৈব প্রভাবকের স্থায়িত্ব ও বিষাক্ততা একটি লক্ষণীয় বিষয়; যেহেতু বায়োক্যাটালিস্ট থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড এবং অনান্য বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উৎপন্ন করে।
বিজ্ঞানী নর্থ এবং তাঁর সহকর্মীরা মিলে চেষ্টা করছেন কীভবে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শিল্পে ব্যবহূত চক্রীয় কার্বনে পরিণত করা যায়। কারণ, নর্থ মনে করেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি উৎপাদন করার চেয়ে একে শিল্পে ব্যবহার করাই শ্রেয়।
তবে সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক এক কনফারেন্সে কার্বন সায়েন্সের এই কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প উষ্ণভাবে গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের পাশাপাশি কার্বন সায়েন্সের আরেকটি প্রকল্প, যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে অধঃক্ষিপ্ত ক্যালসিয়াম কার্বনেট তৈরি হবে, সেটিকে উপস্থাপন করা হয়। এ প্রকল্পটি তৈরি করা হচ্ছে মূলত কাগজ, প্লাস্টিক ও ওষুধশিল্পের কথা মাথায় রেখে।
বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের এই বৃদ্ধি নতুন করে আলোচনার টেবিলে ঝড় তোলে গ্লোবাল কার্বন প্রোজেক্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন কার্বন বাজেট ২০০৭-এর ফলাফল দেখে। এখানে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান অ্যাটমোস্কিয়ারে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনমাত্রা ৩৮৩ পিপিএম বেড়ে গেছে, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন এক-তৃতীয়াংশ অবদান রাখছে।
কার্বন সায়েন্স তাদের এই নব উদ্ভাবিত প্রকল্প নিয়ে বেশ আশাবাদী। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, তাদের এ প্রকল্প কয়লা, গ্যাসচালিত প্লান্ট, তেল শোধনাগারসহ মূলত যেসব শিল্প বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে, সেগুলোতে স্থাপন করে নিঃসন্দেহে কার্বন ডাই-অক্সাইডের দুষণ অনেকাংশে কমানোর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হবে।
মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

Published in:  on November 16, 2008 at 3:06 pm Comments (2)
Tags:

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য তথ্য সেবা

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর কম্পিউটার প্রতিদিন বিভাগে  ৬ নভেম্বর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য তথ্য সেবা

নরসিংদী জেলা শহর থেকে পনেরো কিলোমিটার দুরের এক গ্রাম রহিমদী।রহিমদীর অধিবাসীরা তাদের প্রবাসী স্বজনদের কাছে ই-মেইল করতে চাইলে এতোদিন যেতে হতো নরসিংদী জেলা শহরে।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা রহিমদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নে কমিউনিটি রির্সোস সেন্টার (সিআরসি) তাদেরকে ই-মেইল এর মতো তথ্যপ্রযুক্তির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সেবা দিচ্ছে তারবহীন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ।শুধু ই-মেইলই নয়,এরই সাথে সরকারী বিভিন্ন ফরম প্রিন্টারে মাধ্যমে ছাপানো,স্থানীয় যুবকদের তিনমাস মেয়াদী মৌলিক কম্পিউটার প্রশিণ,মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিণ কার্যক্রম চলছে এধরনের কমিউনিটি রিসোর্স কেন্দ্রগুলোতে।বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওর্য়াক (বিটিএন) এর সদস্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা আহসানিয়া মিশন এর প্রত্য সহায়তায় এ ধরনের কেন্দ্র গড়ে উঠছে গোটা দেশজুড়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে।এসব কেন্দ্রগুলোতে প্রশিনের পাশাপাশি গ্রামবাসীকে অ্যানিমেশন ছায়াছবি এবং ডিভিডির সহায়তায় কৃষি,স্বাস্থ্য,জীবিকা সর্ম্পকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ।

উল্লেখ্য এরকম কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টারগুলো আবার একাধিক গণকেন্দ্রের সমষ্টিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।পাইলট গণকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওর্য়াক গত ৪ নভেম্বর বিভিন্ন  জাতীয় দৈনিকের একদল তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের ব্র্যাক-ডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় গণকেন্দ্র পরিদর্শনে নিয়ে যায়।এই গণকেন্দ্রগুলো সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারনকে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেয়।এসবের মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং,কম্পিউটার প্রশিণ,শিামূলক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক আসাদুজ্জামান নয়ন বলেন,তিনি ছয়টি কম্পিউটারে তারবিহীন জিপিএস মডেমের সহায়তায় ইন্টারনেট প্রযুক্তি সেবা দিচ্ছেন তার ছাত্রছাত্রী এবং স্থানীয় জনগণদের। বিভিন্ন পাবলিক পরীার ফলাফল প্রকাশের সময় স্থানীয় স্কুল কলেজগুলোর শিার্থীদের শিা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফল জানার েেত্র সহায়তা করে এই গণকেন্দ্র।

বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওর্য়াক (বিটিএন) এর প্রোগ্রাম কর্মকর্তা এডোয়ার্ড অপূর্ব সিনহা জানান,দেশে ২০১১ সাল নাগাদ দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক টেকসই তথ্য ও জ্ঞান ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে বিটিএন।এর জন্য তারা মিশন ২০১১ নামক একটি পরিকল্পনা গ্রহন নিয়েছে।বর্তমানে বিটিএনের হিসেব মতে এ ধরনের টেলিসেন্টারের সংখ্যা সারা দেশজুড়ে ১১০৪টি এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০টি।তবে বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওর্য়াক দেশের গ্রামাঞ্চলের নাগরিকদের সাথে শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কম্পিউটারকে আরো ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি
নরসিংদী থেকে ফিরে

Published in:  on November 6, 2008 at 4:23 pm Leave a Comment
Tags:

আউটসোর্স ওয়ার্ল্ডে দেশের সফটওয়্যার শিল্প

বিশ্বের আউসোর্সিং বাজারে তুলে ধরা হলো বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের দক্ষতা আর বর্তমান অবস্থান। দেশের সফটওয়্যার নির্মাতা ও আইসিটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের আউটসোর্সিং কাজ করে তা-ই তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৫-১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আউটসোর্স ওয়ার্ল্ড নামের প্রদর্শনীতে। এ আয়োজনে সফটওয়্যার নির্মাতা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। গতকাল সোমবার ঢাকায় বেসিস কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্স ওয়ার্ল্ড প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারিরা।
সম্মেলনে মেলায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা ও বেসিসের সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম বলেন, নিউইয়র্কের জ্যাকব জেভিটস সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বেসিসের পক্ষ থেকে ১৬টি সফটওয়্যার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ৪১ জন প্রতিনিধি (ডেলিগেট) অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের স্েলাগান ছিল “বাংলাদেশ: এশিয়া’স এমার্জিং আইটি সার্ভিসেস ডেস্টিনেশন”। তিনি আরও বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের একটি পরিচিতি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার ক্রেতাদের মধ্যে।
মেলায় বেসিস ও ইপিবি যৌথভাবে ১৬ অক্টোবর ‘রিস্ক মিটিগেশন ইন আইটসোর্সিং: বাংলাদেশ অ্যাজ অ্যান অপশন’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পে বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সফটওয়্যারের জন্য মেধাস্বত্ব আইন প্রণয়ন রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে অ্যামচেম অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে। কিন্তু সফটওয়্যার বিকাশ শিল্পে এই আইন শিগগিরই প্রয়োগ করা দরকার, পাশাপাশি ই-গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বাংলাদেশে মার্কিন দুতাবাসের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জন ডি ডানহাম জানান, বাংলাদেশকে আগে মার্কিন জনগণ জানত বন্যা-ঘুর্ণিঝড়ের দেশ হিসেবে, কিন্তু এই সফটওয়্যারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ দেশের প্রযুক্তি শিল্প সম্পর্কে তারা একটি ইতিবাচক ধারণা পেয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে বেসিসের এই মেলায় অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
সম্মেলনে বেসিসের সহসভাপতি শামীম আহসান জানান, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইতিবাচক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্র্যান্ডিংয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতার পাশাপাশি ইন্টারনেটের খরচ কমানোর বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, ইউরোপিয়ান কমিশন বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আউটসোর্সিং গন্তব্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
−মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

Published in:  on October 28, 2008 at 11:12 am Leave a Comment
Tags: ,

নভেম্বরে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার মেলা

নভেম্বরে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার মেলা

বছরের শেষ প্রান্তে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার মেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছে প্রযুক্তিপ্রেমীরা। আগামী ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর পাঁচ দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্িথত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের দুই লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড-২০০৮ নামের এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগে সাধারণত বিসিএস কম্পিউটার শো নামে কম্পিউটার মেলার আয়োজন করলেও এবারে এর নাম বদলানো হয়েছে।
বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড-২০০৮ মেলার আহ্বায়ক এ টি শফিকউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, বিসিএস এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে কম্পিউটারের মতো প্রযুক্তিপণ্যকে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য করার কাজটি করে চলেছে অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে এর ধারাবাহিকতায় এ দেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ মেলা বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রযুক্তির মেলা, যেখানে দেশি প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিচ্ছে। এ কারণেই মেলার নামকরণ করা হয়েছে বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড।
মেলায় পুরো প্রাঙ্গণটিকে বিষয়ভিত্তিক একাধিক এলাকায় ভাগ করা থাকবে। যেগুলোর মধ্যে থাকবে স্পন্সর, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, সফটওয়্যার এবং সেবা, ডিজিটাল ইমেজিং, টেলিযোগাযোগ এলাক। আগের মতো এ মেলাতেও ঢাকার একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থার মাধ্যমে মেলা পরিদর্শন করার সুযোগ পাবে।সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় প্রবেশমূল্য থাকবে। তবে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মেলায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা দেওয়া হবে।
এবারের মেলায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়তি কিছু সুবিধা দিচ্ছে মেলা কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে সেমিনারের সময় বরাদ্দ, ব্যবসা বিনিময়সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ রয়েছে। বিসিএসআইসিটিওয়ার্ল্ড-২০০৮-এ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শনী ছাড়াও প্রযুক্তি সম্পর্কিত আলোচনা ও সেমিনারের ব্যবস্থা রেখেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। মেলাজুড়ে সর্বাধুনিক তারবিহীন যোগাযোগব্যবস্থা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সুবিধা পাবে দর্শনার্থীরা। ইতিমধ্যে মেলা সম্পর্কিত একটি ওয়েবসাইট খুলেছে মেলার আয়োজক বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। www.bcsictworld.com ঠিকানার ওয়েবসাইটে মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। −মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

Published in:  on October 27, 2008 at 11:20 am Leave a Comment

ই-বই বনাম কাগুজে বই!

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কম বিভাগে ২৪ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

ই-বই বনাম কাগুজে বই!

মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

মাত্র কয়েক দিন আগেই শেষ হলো জার্মানির বিখ্যাত ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা। বইপ্রেমীদের কাছে এই মেলার আবেদন অনেকখানি। তবে এবারের মেলায় শুধু কাগজের বই নয়, বরং কাগুজে বইয়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক বইয়েরও দেখা মিলেছে। এ ইলেকট্রনিক বইগুলো আবার সাধারণ বইয়ের মতো পাতা উল্টে পড়া যায় না; এর জন্য দরকার পড়ে বিশেষ প্রযুক্তিসংবলিত যন্ত্রের বা ই-রিডারের। পড়ার ইলেকট্রনিক এই যন্ত্রগুলো এবার ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় সাধারণ বইয়ের পাশাপাশি প্রচুর চোখে পড়েছে। মেলার দর্শনার্থীরা এরই মধ্যে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে সাধারণ বইয়ের পাশাপাশি অচিরেই একটি জোরদার যুদ্ধ বেধে যাবে ই-রিডার বা ইলেকট্রনিক বইয়ের।
বর্তমান সময়ে ই-রিডারগুলোর কাটতি ব্যাপক। আমাজনের কিন্ডল এবং বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান সনির রিডারের চাহিদা যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনি এর পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত প্রোটোটাইপ নিয়ে এ ব্যবসায় চলে আসছে। এরই সঙ্গে বইয়ের প্রকাশকেরা তাঁদের বইগুলোর ডিজিটাল আকার দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক দুর এগিয়ে গেছেন।
ই-রিডারগুলোর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হচ্ছে এগুলো যেমন ছোট এবং হাতব্যাগে বহন করার মতো হালকা, তেমনি ব্যাগে পড়ার জন্য একগাদা বই কিংবা সংবাদপত্রের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। আর কিছু ই-রিডারে ইন্টারনেটে শব্দসন্ধানের পাশাপাশি তারবিহীন সর্বাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ওয়াইফাই সংযোগ বিদ্যমান। কারও কারও মতে, এ ধরনের ই-রিডার অচিরে অ্যাপলের আইপড যেমন ডিজিটাল সংগীতের জগৎ করায়ত্ত করেছে, তেমনি ডিজিটাল অক্ষরকে মুঠোয় পুরবে। বিখ্যাত পেঙ্গুইন প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী জন ম্যাকিনসন বলেন, ‘বর্তমানে এ ধরনের ই-রিডারগুলো বিশেষ কোনো শ্রেণীর প্রযুক্তিপ্রেমীর ব্যবহার্য বস্তুর তালিকা থেকে মূলধারার পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে।’ ম্যাকিনসন আরও জানান, পেঙ্গুইন এখন থেকে তার সব বইয়ের কাগুজে সংস্করণের পাশাপাশি এ ধরনের ই-রিডারে পড়ার উপযোগী সংস্করণ বের করছে।
মেলার দর্শনার্থীরা অনেকেই জানান, আগে ধারণা ছিল, এ ধরনের ই-রিডার মূলত বিজ্ঞানীদের উপযোগী এক ধরনের বই পড়ার যন্ত্র। কিন্তু ক্রমেই সে ধারণা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। কারণ, এরই মধ্যে পর্যটক, শিক্ষার্থীদের কাছে পড়ার এই যন্ত্র যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মেলায় সাধারণ ই-রিডারের পাশাপাশি বেশ কিছু অভিনব মডেলও এসেছে। এর মধ্যে ডাচ্ নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান পলিমার ভিশন রেডিয়াস নামের একটি প্রোটোটাইপ ই-রিডার সংস্করণ নিয়ে এসেছে, যা ভাঁজ করা যায়।

বিশ্লেষকদের মত
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসাপ্লাইয়ের মতে, ই-বই বাণিজ্য ২০০৭ সালে ছিল মাত্র ৩৫ লাখ ডলারের; সেখানে ধারণা করা হচ্ছে, ২০১২ সাল নাগাদ এই ব্যবসা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে! যদিও ই-রিডার পুরোপুরি চালু না হতেই এর ভালোমন্দ, সাফল্য, সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক জমে উঠেছে। জার্মানির বই প্রকাশনা শিল্পের একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এমভিবির প্রধান রোনাল্ড শেইল্ডের মতে, ই-বই কখনোই ছাপানো বইয়ের জায়গা দখল করতে পারবে না। তবে এর কিছু সুবিধা জনপ্রিয়তা পাবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানেরা এখনো ছবি দেখে ছাপানো বইয়ের পাতায়। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই তারা পাঁচ কেজি (১১ পাউন্ড) বইয়ের ঝোলা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে কি না।’
পরিবেশবাদীরা অবশ্য ই-বইকে স্বাগত জানিয়েছেন দুটি কারণে−প্রথমত, এতে শক্তির ব্যবহার অনেক কম এবং দ্বিতীয়ত, এ ধরনের বইয়ের ব্যবহারে কাগজের ওপর থেকে চাপ কমবে।
তবে অর্থনৈতিক সংকট এ ধরনের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি কমিয়ে দেবে বেেল ধারণা করছেন ইউরোপিয়ান বুকসেলার ফেডারেশনের পরিচালক ফ্যাঙ্কুয়েস ডুবরুলি। আবার কারও কারও ধারণা, এ ধরনের বই পড়ার যন্ত্রের চেয়ে মুঠোফোনের পর্দা ডিজিটাল লেখা পড়ার একটি ভালো মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। আর মুঠোফোন এরই মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের কাছে আছে এবং এটি সহজে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারে।

আগামী দিনের বই!
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার পরিচালক জুয়েরগেন বোশ বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বই প্রকাশকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা মুঠোফোনে পড়ার উপযোগী করে বই প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন; কারণ, সেখানে সবার কাছে মুঠোফোন আছে। আর ই-বুক রিডারের প্রতিটির দাম পড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার, যেখানে এই পণ্যের কোনো বাজার নেই বললেই চলে।’
উল্লেখ্য, জাপানে কিছু ছোটগল্প চালু হয়ে গেছে, যেগুলো পাঠক তার মুঠোফোনের পর্দায় পড়তে পারবে ইনস্টল করার পর। অন্যদিকে অ্যাপলের আইফোন তার ব্যবহারকারীদের মুঠোফোনে উপন্যাস পড়ার সুবিধা দিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই।
তবে এ ধরনের যন্ত্রোপযোগী বই পড়ার পাঠক যে দিন দিন বাড়ছে, তার সঙ্গে সুর মেলালেন মার্কিন প্রকাশকদের সংগঠনের কপিরাইট কমিটির প্রধান অ্যালান অ্যাডলার। তিনি বলেন, ‘আপনি ইচ্ছা করলেই এখন ইন্টারনেট থেকে সহজে আপনার কাছে থাকা ডিজিটাল যন্ত্রের উপযোগী পাঠ্য কোনো লেখা নামাতে পারেন। আর এই নামানোর হার দিন দিন বাড়ছে।’

প্রশ্ন যখন আবেগের
কিন্তু অনেক পাঠক ও লেখক একবাক্যে জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের ডিজিটাল লেখায় সাধারণ কাগজে লেখা বইয়ের অনুভুতি প্রকাশ পায় না। নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক অরহান পামুক তাঁর নিজের ইস্তাম্বুল পাঠাগারে ৭০ হাজারের মতো বৃহৎ গ্রন্থখন্ড সংগ্রহ করেছেন। তিনি এ কথায় সায় দিয়ে বলেন, ‘আমি যখন এই বর্তমান প্রযুক্তির মানের দিকে তাকাই, তখন একবাক্যে ই-রিডার ব্যবহারকে বলি, না। কিন্তু যেদিন এই প্রযুক্তির বই বিশেষত পুরোনো বইয়ের সেই সৌরভ সৃষ্টি করতে পারবে, তখন হয়তোবা বলব, হ্যাঁ।’
এখন দেখার বিষয় হলো ই-রিডারের ই-বই আসলেই কি হটিয়ে দিতে পারবে এত দিন ধরে কালজয়ী আবেগ সৃষ্টিকারী কাগজে লেখা বইকে? ভবিষ্যৎই বলে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর।
রয়টার্স অবলম্বনে

Published in:  on October 24, 2008 at 3:19 am Leave a Comment
Tags: ,

অনলাইনে কাউন্সেলিং সেবা

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর প্রতিদিন কম্পিউটার বিভাগে ২২ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

অনলাইনে কাউন্সেলিং সেবা


মাঝেমধ্যে সব মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন দরকার পড়ে কারও পরামর্শের। কার কাছে এই পরামর্শ নেব−এ দোটানায় ভুগে ভুগে কাজের গতি কমে আসে। ইন্টারনেটে এসব পরামর্শ বিনা মূল্যে আপনি অন্যের সঙ্গে শেয়ার (অংশীদারি) করতে পারেন, এ রকম একটি ওয়েবসাইট হলো http://www.horsesmouth.co.uk।
হর্সেসমাউথ নামের এ ওয়েবসাইটের স্েলাগান হলো, ‘কেউ জানে আপনার কি প্রয়োজন, অন্যের প্রয়োজন যেমন আপনি জানেন’। এ ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট্য হলো, অন্যের সঙ্গে এ বিষয়গুলো আপনি শেয়ার করতে পারবেন একেবারে বিনা পয়সায়। আপনি নিজে যদি কোনো বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হন, তাহলে এ ওয়েবসাইটে সে বিষয়গুলো লিখে আপনি মেন্টর কিংবা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে পারেন। মানুষকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপশি এ বিষয়ে আপনার মেধা শাণিত করতে পারবেন অন্যের সঙ্গে পরামর্শ আলেচনা করে।
এ সাইটের লাইফ বা জীবন বিভাগে অন্তর্ভুক্ত একাধিক বিষয়, যেমন−সম্পর্ক এবং পরিবার, বিশ্বাস, গৃহ, আইন ও অধিকার, স্বাস্থ্য, মেধা, নাগরিকত্বের মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে আপনি পরামর্শ পাবেন অন্যের কাছ থেকে। এরই সঙ্গে কাজ নামের বিভাগে পেশা ঠিক করা, চাকরি প্রাপ্তি, কর্মক্ষেত্রে আপনার অধিকার, ব্যবসা বিষয়ে পরামর্শ কিংবা আলোচনা করতে পারেন সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে।
এ ছাড়া লার্নিং বিভাগে আপনি পড়াশোনা সম্পর্কে বিবিধ আলোচনা, অন্যের কাহিনী, অভিজ্ঞতা শুনতে পারবেন; যার মধ্যে আছে কোথায় পড়বেন, ছাত্রজীবন, কারিগরি শিক্ষার মতো দরকারি বিষয়।
সব মিলিয়ে এ ওয়েবসাইটের অন্যতম প্রধান কাজ হলো কোনো কাজে ভোগান্তি বা জটিলতা সম্পর্কে অন্যদের আগাম জানানো। একই সঙ্গে কোনো কাজে নামার আগে সেই বিষয় সম্পর্কে আপনি অন্যের কাছ থেকে পরামর্শও নিতে পারবেন বিনা মূল্যে এ ওয়েবসাইট থেকে। এ সাইটে সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আপনার নিজের তিনটি গুণ বা আপনি যেসব বিষয়ে অভিজ্ঞ, জানাতে হবে সদস্য নিবন্ধন ফরমে। তবে এ ওয়েসসাইটে নিজের সমস্যা লেখার পাশাপাশি অন্যের সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হলে প্রথমে এর সদস্য হতে হবে।
−মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

Published in:  on October 22, 2008 at 2:40 am Leave a Comment

বাংলাদেশে ই-গভর্নমেন্ট চালু প্রয়োজন

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর কম্পিউটার প্রতিদিন বিভাগে ১৯ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে

বাংলাদেশে ই-গভর্নমেন্ট চালু প্রয়োজন


বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ইন্টারনেট, তথ্যব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা দরকার বলে জানালেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. ম. তামিম। গতকাল শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ আয়োজনে ‘ই-গভর্নমেন্ট ফর বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পাথওয়ে টু সাকসেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে অসএইডের সাহায্যপুষ্ট অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএনইউ) সহায়তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবস্থাপনা শীর্ষক কর্মশালার হ্যান্ডবুকের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের আইসিটি ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ কর্মশালা এবং হ্যান্ডবুক সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলে বক্তারা জানান। সেমিনারে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট বলেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক বৃত্তির মতো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া অনেক আগে থেকে সহায়তা করে আছে। বর্তমানে ই-গভর্নমেন্ট স্থাপন এরই একটি ধারাবাহিক প্রকল্প। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরউজ্জামান তাঁর বক্তব্যে দেশে ই-গভর্নমেন্ট চালু করার জন্য আরও বেশি পরিমাণ মানবসম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে এরই মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন ই-গভর্নমেন্ট প্রকল্প যেমন জাতীয় ভোটার পরিচয়পত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করেন সেমিনারের বিশেষ অতিথি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফরমেশন সিস্টেমস রিসার্চের পরিচালক অধ্যাপিকা শার্লি গ্রেগর। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও আইসিটিসচিব শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে সরকারের আইসিটির লক্ষ্য এবং আইসিটির রোডম্যাপের কথা উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. কামালউদ্দীন আহমেদ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক জাবেদ আলী সরকার।
সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আইসিটি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক হ্যান্ডবুক প্রদর্শন করা হয়। −মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

Published in:  on October 19, 2008 at 1:50 am Leave a Comment
Tags: , ,

আসছে গুগল ফোন

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কম বিভাগে ১৭ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

আসছে গুগল ফোন

মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

গুনে গুনে আর মাত্র চার দিন। চার দিন পেরোলেই বহু প্রতীক্ষিত গুগলের মুঠোফোন ওয়েবসাইটের পাতা থেকে চলে আসবে মার্কিন মুলুকের ক্রেতাদের হাতের মুঠোয়। যুক্তরাষ্ট্রের টি-মোবাইল কোম্পানি ইতিমধ্যে এই গুগল ফোন ওয়েবসাইটে প্রদর্শন এবং অর্ডার নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ২২ অক্টোবর এই জি১ ফোন (গুগল ফোনকে নাম দেওয়া হয়েছে জি১) হাতে নিতে পারলেও যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। বাকি ইউরোপের দেশগুলোতে এই জি১ ফোন চালু হবে আগামী বছরের শুরুতে।
গুগল ফোন দেখতে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা অ্যাপলের আইফোনের মতো হলেও এতে যুক্ত রয়েছে বেশ কিছু নতুন সুবিধা। উচ্চ রেজুলেশনসম্পন্ন বড় পর্দার পাশাপাশি এই ফোনে আছে ট্রাকবল। সরানো যায় এ রকম কি-বোর্ড, গুগলের বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন, ক্যালেন্ডার, মানচিত্র, ইউটিউবের ভিডিও ছবি দেখা ও জি-মেইল এবং অন্যান্য ই-মেইল সুবিধা ব্যবহারের মতো সুযোগ।
টি-মোবাইল কোম্পানি এই গুগল ফোনকে প্রাথমিক অবস্থায় দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বাজারজাত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ১৭৯ ডলার দামের এই মুঠোফোন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মিয়ামিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২১টি শহরে পাওয়া যাবে কয়েক দিনের মধ্যে। মূলত টি-মোবাইলের দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক সংযোগে এই ফোনে তৃতীয় প্রজন্েনর তারবিহীন সুবিধা কার্যকর হবে। তবে যেখানে টি-মোবাইলের অপেক্ষাকৃত ধীর নেটওয়ার্ক বিদ্যমান, সেখানেও এটি চলতে পারবে। কিন্তু তারহীন ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে হলে দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক সংযোগ দরকার পড়বে এই গুগল ফোনের। উল্লিখিত ২১টি শহর বাদে অন্যান্য শহরের ক্রেতারা টি-মোবাইলের ওয়েবসাইট থেকে এই ফোনটি অনলাইনে কিনতে পারবেন।
লোভনীয় প্যাকেজ
গুগলের এই ফোনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের জন্য প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছে টি-মোবাইল। যার মাধ্যমে ৪০০ সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) এবং ইন্টারনেটে অসীম (আনলিমিটেড) তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। এর জন্য ক্রেতাকে প্রতিমাসে গুণতে হবে মাত্র ২৫ ডলার। এরই সঙ্গে সর্বাধুনিক অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে এই ফোনে।
চমকপ্রদ যত সুবিধা
জি১ ফোনে গুগলের বিভিন্ন সুবিধা তো ব্যবহার করাই যাবে, পাশাপাশি এর পর্দার আকার বড় করা হযেছে যেন ইন্টারনেটের কোনো ওয়েবসাইটকে বড় আকারে দেখা যায়। এতে ছবি তোলার জন্য যুক্ত রয়েছে ৩ মেগাপিক্সেলের সক্ষম ক্যামেরা। গুগল ফোন পর্দাকে একজন ব্যবহারকারী তার ইচ্ছেমতো যেমন প্রোগ্রাম, ফোল্ডার বা ছবি দিয়ে সাজাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে গতানুগতিক ফোনের মডেলের খোলস থেকে অনেকখানি বেরিয়ে এসেছে গুগল। তাৎক্ষণিক বার্তার (ইনস্যান্ট মেসেজিং) সুবিধা যোগ হয়েছে এতে, গান শোনার জন্য রয়েছে ১ গিগাবাইট মেমোরি কার্ড। কি-বোর্ড, দ্রুত ভিডিও ছবি চালনার পাশাপাশি তৃতীয় প্রজন্েনর নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই এবং অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ তো রয়েছেই। আর ফোনটির পর্দা কিন্তু আঙুলের স্পর্শ দিয়ে চালানো যায়।
গুগল-কর্তার কথা
গুগল তার অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বেশ আশাবাদী। ইতিমধ্যে কম্পিউটারের প্রচলিত ইন্টারনেটে গুগল তার সার্চ ইঞ্জিন এবং অন্যান্য সুবিধা দিয়ে পুরো প্রযুক্তিবিশ্বের অনেকখানি নিজের দখলে রেখেছে। বর্তমানে এই দখলের ধারা মুঠোফোনেও বিস্তৃতি ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন নিউইয়র্কের গুগল ফোনের উদ্বোধনী দিনে বলেন, ‘আমাদের কাছে যদি অসাধারণ অপারেটিং সিস্টেম থাকে, তাহলে এর জন্য অসাধারণ মানের যন্ত্র এবং প্রোগ্রাম সৃষ্টি করতে হবে। যাতে মানুষ আরও বেশি সময় তাদের মুঠোফোনের ইন্টারনেটের পেছনে ব্যয় করে; যা আমাদের ব্যবসাকে আরও ভালো করবে। তবে এর সঙ্গে আমাদের কোনো রকম বিজ্ঞাপন চালু করার গোপন পরিকল্পনা নেই।’
বিশ্লেষকদের ধারণা
উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেজুলেশন পর্দা শুধু গুগল ফোনের নয়, ইতিমধ্যে তা আইফোন এবং ব্ল্যাকবেরির মুঠোফোনগুলোতে চলে এসেছে। তা ছাড়া গুগল ফোনের কোনো করপোরেট ই-মেইল সার্ভারে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা খুবই সীমিত। যার ফলে করপোরেট ঘরানার ক্রেতাদের কাছে এই সেটটি খুব একটা কদর পাবে না; মূলত সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এটি। এমন ধারণা করেন অনেক বিশ্লেষক।
পসি ম্যাগাজিন-এর প্রধান সম্পাদক ল্যান্স উলানফ বলেন, ‘এই গুগল ফোনে খুব একটা চমকপ্রদ সুবিধা নেই, তবে এটি অচিরেই একটি ভালোমানের ইন্টারনেট ফোনে পরিণত হবে।’
গুগলের গুণ
এই ফোনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক যা কি না অ্যাপলের আইফোনকে ছাড়িয়ে গেছে, সেটি হলো এর প্রোগ্রামগুলোর ইচ্ছেমতো উন্নয়ন সাধন করা যাবে।
গান শোনার ক্ষেত্রেই গুগল ফোন তার ব্যবহারকারীদের বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে। অ্যাপল যেখানে আই-টিউনস ছাড়া গান নামাতে দেয় না, সেখানে গুগল আমাজন থেকে গান নামানোর সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি এই গানগুলোতে কোনোরকম কপি প্রতিরোধ সুরক্ষা নেই। এ কারণে ক্রেতারা এটি স্থানান্তরের পুরো সুবিধা ভোগ করবে।
সিএনএন অবলম্বনে

Published in:  on October 17, 2008 at 2:25 am Leave a Comment
Tags:

সাগরে বাড়ছে মৃত এলাকা

এই বিজ্ঞান প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর বিজ্ঞান প্রজন্ম বিভাগে ১২ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

সাগরে বাড়ছে মৃত এলাকা

মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

বিশ্বজুড়ে উপকুলীয় অঞ্চলগুলোতে মৃত এলাকার সংখ্যা বেড়ে চলছে আশঙ্কাজনক হারে। এই মৃত এলাকা বলতে বোঝায়, যেখানে জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ পায় না। জানা মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৮০০টির বেশি মৃত এলাকা সন্ধান পাওয়া গেছে বিভিন্ন উপকুলবর্তী অঞ্চলে, যেখানে ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০৫। সম্প্রতি ভার্জিনিয়া ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সে কর্মরত গবেষক রবার্ট ডিয়াজ তাঁর এক গবেষণা প্রবন্ধে এই মৃত এলাকার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মৃত এলাকার সংখ্যা বৃদ্ধির দ্রুততম ধারাটি শুরু হয়েছে ৫০ বছর ধরে। কারণ, ১৯১০ সালে এ ধরনের এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল মাত্র চারটি। ১৯৬০ সালে ৪৯টি, ১৯৭০ সালে ৮৭টি এবং পরবর্তী এক দশকে প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক অর্থাৎ ১৬২টি মৃত এলাকার সন্ধান পাওয়া যায় এই পৃথিবীতে।
এ গবেষণা প্রবন্ধটি গত ১৫ আগস্ট বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধের আরেক লেখক সুইডেনের গোটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুটগার রোজেনবার্গ ও ডায়াজ নিজেও প্রবন্ধে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এই মৃত এলাকাগুলো মূলত মেরিন ইকোসিস্টেমের মূল ধ্বংসকারী হিসেবে চিহ্নিত। শুধু তা-ই নয়, মৃত এলাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, জলজ প্রাণীর বিলুপ্তি, ক্ষতিকর অ্যালগির ব্লুম সৃষ্টি হওয়ার মাধ্যমে গোটা মেরিন বাস্তুব্যবস্থা (ইকোসিস্টেম) যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে ধীরে ধীরে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
মৃত এলাকা সাগরের পানিতে সৃষ্টি হলেও এর মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করে স্থলভাগের কৃষি উৎপাদনে ব্যবহূত বিভিন্ন সারের প্রয়োগ। কৃষি উৎপাদনে ব্যবহূত সারে প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে নাইট্রোজেন, ফসফরাসের মতো রাসায়নিক দ্রব্য। শুধু কৃষিজমি থেকেই নয়, জীবাশ্ম জ্বালানির দহনও এর আরেকটি কারণ। এই নাইট্রোজেন ও ফসফরাস পরে সাগরের পানিতে গিয়ে মেশে এবং উপকুলীয় অঞ্চলে অ্যালগির ব্লুম সৃষ্টি করে। বিপুল আকারে সৃষ্ট এই অ্যালগির ব্লুম পানিতে দ্রবীভুত অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় অনেকাংশে, যা পরে সমুদ্রের তলদেশে অবস্িথত বিভিন্ন জলজ জীব ও মাছের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বেশির ভাগ মেরিন ইকোসিস্টেমে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয় মূলত শরৎ ও বসন্তকালে। কিন্তু ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ যদি সব সময় এ রকম থাকে, তাহলে এই মৃত এলাকার পরিস্িথতি অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে সারা বছর। এর চাক্ষুষ প্রমাণ মেলে পৃথিবীর বৃহত্তম মৃত এলাকা, যেটি বাল্টিক সাগরে অবস্িথত, সেটির ক্ষেত্রে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম মৃত এলাকা, যা মেক্সিকো উপসাগরের কাছে মিসিসিপি নদীর সঙ্গে যুক্ত, সেটির আকার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এর আকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি শহরের সমপরিমাণ অর্থাৎ আট হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার! তবে এরই মধ্যে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মার্কিন সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে, কী করে এ ধরনের মৃত এলাকার পরিমাণ কমানো যায়। এরই অংশ হিসেবে ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের কৃষকদের মধ্যে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই অনুদানের টাকা কৃষকদের দেওয়া হবে। কারণ, তারা যেন ফসল উৎপাদনের পর উন্নুক্ত জমিতে অন্য কোনো গাছ লাগায়, যেটি জমি থেকে এ ধরনের সারের উপাদানগুলো নদী কিংবা অন্য জলাশয়ে যেতে বাধা দেয়। তবে প্রবন্ধে গবেষক ডায়াজ জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে এই মৃত এলাকার পরিমাণ কমাতে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে যে বিষয়টির ওপর সেটি হলো, জমিতে প্রয়োগ করা সার যেন সাগরে গিয়ে পড়তে না পারে। কারণ, সাগরের পানিতে ক্রমান্বয়ে সারের উপস্িথতি একদিকে যেমন মৃত এলাকা সৃষ্টি করে জলজ ইকোসিস্টেমের ধ্বংস ডেকে আনছে, পাশাপাশি সারের অপচয়ের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে মৃত এলাকার পরিমাণ বৃদ্ধি শুধু জলজ ইকোসিস্টেম নয়, পাশাপাশি পৃথিবীর পরিবেশে ক্রমেই একটি বড় আকারের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

Published in:  on October 12, 2008 at 2:47 am Leave a Comment

গুগল যাবে সমুদ্রে!

এই প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর প্রজন্ম ডট কম বিভাগে ১০ অক্টোবর,২০০৮ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

গুগল যাবে সমুদ্রে!

মুহম্মদ আরিফিন সন্ধি

শিরোনাম শুনে মনে হতে পারে ইন্টারনেটের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল বুঝি তাদের ব্যবসা গুটিয়ে সমুদ্রের কোনো বাণিজ্যে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ঘটনা সম্পুর্ণ উল্টো। গুগল তাদের ব্যবসার পরিধি বর্তমানে পৃথিবীর স্থলভাগ ছাড়িয়ে সমুদ্রেও বিস্তৃত করছে। গুগল বিশাল তথ্যভান্ডারের জন্য সারা বিশ্বে সমাদৃত। বর্তমানে সেই তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টারগুলো গুগল সমুদ্রে স্থাপন করতে চাইছে। মূলত যুক্তরাজ্যে গড়ে উঠবে এই প্রকল্প।
সমুদ্রে তথ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে গুগলই প্রথম নয়, যুক্তরাজ্যে এ রকম একটি বেতারকেন্দ্র এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে। রেডিও ক্যারেলিন সমুদ্রের মধ্যে এ রকম বিশালকায় বার্জে (নৌযানে) স্থাপিত একটি বেতারকেন্দ্র, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাজুড়ে।
যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত টাইম পত্রিকায় সাম্প্রতিক এক প্যাটেন্ট দরখাস্তের মাধ্যমে গুগল জানায়, তারা শিগগিরই উপকুল থেকে ১১ কিলোমিটার দুরে গভীর সমুদ্রে একটি বার্জে তাদের ডেটা সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে। এ সেন্টারটি মূলত গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য জোগাবে। এই তথ্যকেন্দ্রেও সুবিশাল সুপার কম্পিউটারগুলোর শক্তি জোগাতে এবং সেগুলো শীতল করে রাখতে সমুদ্রের ঢেউয়ের কার্যকর ভুমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে। পেটেন্ট দরখাস্তে গুগল উল্লেখ করে, ‘কম্পিউটারকেন্দ্রটি এক বা একাধিক জাহাজে স্থাপন করা হবে এবং এই নৌযানগুলো নোঙর করা অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে। এখানে পানির প্রাকৃতিক নড়াচড়া (মোশন) থেকে শক্তি সংগ্রহ করা হবে এবং এই শক্তিকে পরে বিদ্যুৎ শক্তি ও পাম্পের প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই পাম্পগুলো তথ্যকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন তাপ সংগ্রহ করে গোটা কেন্দ্রটি ঠান্ডা রাখবে।’
উল্লেখ্য, এ ধরনের সার্ভার কেন্দ্রগুলো যথেষ্ট পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে, যেগুলো ঠান্ডা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে ধরা হয়। ২০০৫ সালে করা এক গবেষণায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক জনাথন কুমি উল্লেখ করেন, ডেটা সেন্টারগুলোতে শক্তি গ্রহণের হার ২০০০ সালের তুলনায় ২০০৫ সালে দ্বিগুণ হয়েছে। তাঁর মতে, এই বিশাল শক্তি গ্রহণের কারণে ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ খরচের বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
এরই মধ্যে বিশ্বের অন্য বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব ডেটা সেন্টারগুলো শীতলীকরণের জন্য নানা উপায় খুঁজছে। মাইক্রোসফট তাদের ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য রাশিয়ার শীতল প্রান্তর সাইবেরিয়াকে বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে সান মাইক্রো সিস্টেমস তাদের একটি কম্পিউটার সেন্টারকে একটি সাবেক কয়লাখনিতে স্থাপন করেছে, যেখানে খনির ঠান্ডা পানি সেই কম্পিউটারগুলো শীতল রাখতে সহায়তা করে।
কিন্তু গুগলের এই প্রকল্পের সাফল্য লাভের কতটুকু সম্ভাবনা আছে, সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা কিছুটা সন্দিহান। ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যান্ড নেটওয়ার্কে কর্মরত রিডার ড. ব্রাড কার্প বলেন, ‘বহিঃসমুদ্রে এ ধরনের ডেটা সেন্টার স্থাপন একদিকে যেমন বিপজ্জনক, কারণ অনেক বেশি মাত্রার ঝুঁকি বহন করে; তেমনি অন্যদিকে সফল হলে এটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ সম্ভাবনা বয়ে আনবে।’ একই সঙ্গে এই প্রকল্পের কল্যাণে গুগলের আরও কিছু বাড়তি মুনাফা চলে আসবে, যার মধ্যে আছে বহিঃসমুদ্রে স্থাপনের কল্যাণে স্থাবর কর দিতে হবে না; পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচের একটি বড় অংশ বেঁচে যাবে সমুদ্রের পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে।
অবশ্য এই প্রকল্পের বেশ কিছু জটিলতার কথা আগেভাগে বিজ্ঞানীরা শুনিয়ে দিয়েছেন গুগলকে। বিজ্ঞানী কার্প বলেন, সমুদ্রের ভেতরে ১১ কিলোমিটার দুরে এটি স্থাপন করলে অবশ্যই মূল ভুমির সঙ্গে যুক্ত হতে প্রচুর তারের প্রয়োজন হবে। সমুদ্রের তলদেশ থেকে টেনে নেওয়া এই তার কিছুটা হলেও কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। আর সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ এই তারের সঙ্গে সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে না! আবার কেউ কেউ জাহাজ দুষ্ককৃতকারীদের দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলেন, এ ধরনের সরাসরি হামলা করার আশঙ্কা নেই, তবে নেটওয়ার্কে হ্যাকার বা সাইবার অপরাধীদের হামলা করার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে ডেটা সেন্টারগুলোতে অবশ্য করপোরেট ঘরানার নিরাপত্তার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা থাকে। বিজ্ঞানী কার্পের মতে, সমুদ্রে এ ধরনের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রহরী নৌযানের ব্যবস্থা রাখা উচিত।
গুগলের এই প্রকল্পে পুরো ষোল আনা ফায়দা লুটে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে মেরিটাইম (সমুদ্রে) বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠানগুলোর। মেরিটাইম ই-কমার্স বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র একি নেলসন বলেন, ‘আমি যত দুর জানি, এখন পর্যন্ত এ রকম (গুগলের প্রকল্প) কোনো প্রকল্প এর আগে গড়ে ওঠেনি। আমরা শুধু সাগরে এর আগে বেতারকেন্দ্র দেখেছি।’ এরই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, গুগলের প্রকল্প সফলতার মুখ দেখলে অন্য প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসন্দেহে এ ধরনের কাজ নিয়ে এগিয়ে আসবে।
সিএনএন অবলম্বনে

Published in:  on October 10, 2008 at 3:34 am Leave a Comment
Tags: ,